Home / নারী স্বাস্থ্য / নারীদের যৌবন ধরে রাখার উপায়

নারীদের যৌবন ধরে রাখার উপায়

নারীদের যৌবন ধরে রাখার উপায়। বয়স বাড়তে না বাড়তেই চোখের পাশে, ঠোঁটের নীচে, কপালে ভাজ পড়তে শুরু করে। আয়নায় দেখলে নিজেকে কেমন যেন অচেনা লাগে। আর এ সবের চক্করে আত্মবিশ্বাসও কমতে শুরু করে। তাই সময় থাকতে আপনার ত্বকের যত্ন (Care) নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকেরও বয়স বাড়ে। চোখে মুখে বয়সের ছাপ পড়ে, ত্বকের উজ্জ্বলতা (Brightness) কমে যায়।নারীদের যৌবন

নারীদের যৌবন ধরে রাখার উপায়

ত্বকের যৌবন (Youth) ধরে রাখতে এবং বলিরেখা দূর করতে ভরসা রাখতে পারেন ঘরোয়া টোটকায়। যদিও বাজারে বহু ব্রান্ডের অ্যান্টি রিঙ্কলস ক্রিম এবং ফেসপ্যাক রয়েছে। সেগুলি ব্যবহারের ভালো দিকের পাশাপাশি খারাপ দিকও কিন্তু রয়েছে। কারণ বেশিভাগ প্রোডাক্টে রাসায়নিক রয়েছে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। একটা সমস্যা দূর করতে দশটা সমস্যাকে ডেকে আনতে পারে। সেদিক থেকে চোখ বন্ধ করে ঘরোয়া টোটকার উপর ভরসা করতে পারেন। খুব সহজেই উপকার পাবেন, আর ত্বকে কোনও ক্ষতির ভয়ও থাকবে না। রইল এমনই কিছু ঘরোয়া উপায় যা ত্বককে বলিরেখা মুক্ত করবে এবং উজ্জ্বলতা (Brightness) বাড়াবে।

১। ডিমের সাদা অংশ
অ্যান্টি রিঙ্কলস ক্রিমের বদলে মুখে ডিমের সাদা অংশ সপ্তাহে এক-দু’বার লাগান, ভালো ফল পাবেন। সইজ এই ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের বলিরেখা এবং ফাইনলাইনস (Fine lines) দূর হবে। ত্বক আগের মতো টানটান হয়ো উঠবে। ডিমের সাদা অংশ ভালো করে ফেটিয়ে নিন এবং ত্বকের উপর লাগিয়ে নিন। ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

২। অ্যালোভেরা
একচামচ অ্যালোভেরা জেল এবং একটি ডিমের সাদা অংশ দুটি উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন এবং সেটি মুখে ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন। আধ ঘণ্টা রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ভিটামিন সি-এর অন্যতম উৎস, যা ত্বকের সজীবতা ফিরিয়ে আনে। এছাড়াও এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান বলিরেখা তো দূর করেই ত্বককে দাগছোপ মুক্ত করে। সপ্তাহে দু’এই মিশ্রণটি লাগাতে পারেন।

৩। পেঁপে এবং কলা
কয়েক টুকরো পাকা পেঁপে (Papaya) এবং অর্ধেক পাকা কলা নিন। দুটি ফল একসঙ্গে ব্লেড করে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন এবং ত্বকের যে অংশ বলিরেখা রয়েছে সেকানে প্যাকটি লাগিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট রাখার পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। পেঁপের মধ্যে প্যাপাইন নামক এনজাইম রয়েছে, অন্যদিকে কলার মধ্যে রয়েছে নানা ভিটামিন যা ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। ন্যাচরাল এই ফেসপ্যাকটি বলিরেখা (Wrinkles) মুক্ত করতে এবং ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে দারুণ উপকারী। সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার এই প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

৪। হলুদ এবং আখের রস
হলুদ এবং আখের রস ত্বকের স্বাভাবিক ইলাস্টিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে উপস্থিত উপাদানগুলো বলিরেখা দূর করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। একচামচ হলুদ গুঁড়ো এবং ১-২চামচ আখের রস নিন। হলুদ গুঁড়ো এবং আখের রস একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন এবং মসৃণ (Smooth)মিশ্রণ তৈরি করে নিন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১০-১২ মিনিট রেখে দিন। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫। নারিকেল তেল
রূপচর্চায় নারকেল তেলের ব্যবহার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। বলিরেখা দূর করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। চোখ, ঠোঁটের চারপাশে ও গলায় ভালো করে নারিকেল তেল (Coconut Oil)আলতো হাতে মালিশ করে নিন। একবার ক্লকওয়াইজ, একবার অ্যান্টিক্লকওয়াইজ ম্যাসাজ করুন। সারারাত রেখে পরদিন সকালে উঠে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

৬। অ্যাপেল সিডার ভিনেগার
অ্যাপেল সিডার ভিনিগার ত্বকে পি এইচ-এর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে দু’দিন এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক বলিরেখা (Wrinkle) মুক্ত এবং উজ্জ্বল হবে। অ্যাপেল সিডার ভিনিগার এবং মধু (Honey) একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। ফেসপ্যাকটি মুখে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ভালো করে মুছে নিন। আপনার ত্বকে সুট করে এমন কোনও ময়েশ্চারাইজার (Moisturizer) লাগিয়ে নিন।

৭। ভেসলিন
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়মিত এর ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন। পেট্রোলিয়াম জেলি (Petroleum jelly) ত্বকের স্বাভাবিক আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকে বলিরেখা রোধ করে। যেখানে বলিরেখা (Wrinkle) দেখা দিয়েছে সেইসব জায়গায় পুরু করে ভেসলিন লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণ মালিশ করুন য়াতে এটি ত্বকের গভীরে পৌঁছায়। সারারাত রেখে দিন এবং সকালে উঠে মুখ ধুয়ে নিন।

৮। মধু
নিয়মিত মুখে মধু ব্যবহারে ত্বকের তারুণ্য এবং উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। চোখে মুখে ক্লান্তি ভাব এবং বলিরেখা (Wrinkle) দূর করতে দারুণ কার্যকরী। ত্বকে পি এইচ-এর ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ফাইনলাইনস ও বলিরেখা কম করে। ত্বকে মধু লাগিয়ে কয়েক মিনিট আলতো হাতে মালিশ করুন। আধ ঘণ্টা রাখার পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। আরও ভালো ফল পেতে মধুর সঙ্গে সামান্য আদা মিশিয়ে নিতে পারেন।

৯। লেবুর রস
লেবু কেবলমাত্র শরীরচর্চাতেই নয়, রূপচর্চাতেও দারুণ কার্যকরী। এর মধ্যে উপস্থিত ভিটামিন সি ত্বকে কোলাজেন পুনর্নিমানে সাহায্য করে, যা ত্বককে বলিরেখা (Wrinkle) এবং ফাইনলাইনস মুক্ত করে। সমপরিমাণে লেবুর রস এবং মধু নিন। দুটিকে একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে, ঘাড়ে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

১০। বেকিং সোডা মাস্ক
বেকিং সোডা ত্বককে পরিষ্কার এবং মসৃণ করে তোলে। ত্বক বলিরেখা মুক্ত করে তোলে। বেকিং সোডা এবং পানি একসঙ্গে মিশিয়ে এখটি স্ক্রাব তৈরি করে নিন। স্ক্রাবটি ত্বকের উপর ভালো করে মাস্যাজ করুন। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। মুখ মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

১১। ক্যাস্টর অয়েল
ক্যাস্টর অয়েল ত্বকের স্বাভাবিক ইলাস্টিসিটি বজায় রাখে এবং কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ায়। রোজ রাতে শুতে যাওয়ার আগে এই তেল ব্যবহার করুন। কিছুদিনের মধ্যে আপনার ত্বক বলিরেখা মুক্ত এবং উজ্জ্বল হবে। তুলোতে সামান্য ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে মুখের যে জায়গায় বলিরেখা (Wrinkle) দেখা দিয়েছে সেখানে লাগিয়ে নিন। সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলবেন না, সারারাত লাগিয়ে রাখুন।

১২। পর্যাপ্ত ঘুমান
নিয়মিত ত্বকের যত্নের পাশাপাশি, পর্যাপ্ত ঘুম (Sleep) খুবই প্রয়োজন। দিনে কমপক্ষে সাত ঘণ্টা ঘুম দরকার। ঘুমের সময় বালিশের কারণেও মুখে বলিরেখা (Wrinkle) হতে পারে। অনেকের পেটের উপর ভর দিয়ে ঘুমান, তাতে বলিরেখা বেশি করে দেখা দিতে পারে। চেষ্টা করুন পিঠের উপর ভর দিয়ে ঘুমাতে।

১৩। স্ট্রেস কমান
অবসাদ শরীর ও মনের পাশাপাশি আপনার সৌঁন্দর্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। অল্প বয়সেই চোখে মুখে বার্ধক্যের ছাপ ফেলতে পারে। সুতরাং যতটা সমস্যা মন ভালো রাখুন এবং সুস্থ স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করুন।

১৪। প্রচুর পানি খান
সারাদিনে কমপক্ষে ১-২ লিটার পানি খেতেই হবে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে সারাদিনে অন্তত ৫-৬ লিটার পানি খাওয়া জরুরি। ত্বকের সৌন্দর্য (Beauty) ধরে রাখতেও পানির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

১৫। সূর্যরশ্মি থেকে দূরে থাকুন
সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে ত্বকে ট্যান পড়ার পাশাপাশি বলিরেখা সৃষ্টি করে। সূর্যের অতিরিক্ত তাপে ত্বক (Skin)দূর্বল হয়ে পড়ে। তাই এরপর থেকে বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সঙ্গে একটা ছাতা রাখুন।

সুস্থ থাকুন, নিজেকে এবং পরিবারকে ভালোবাসুন। আমাদের লেখা আপনার কাছে কেমন লেগেছে এবং আপনার যদি কোনো প্রশ্ন অথবা মতামত থেকে থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আর আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে শেয়ার করুন। সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

Check Also

ওজন

ওজন কমানোর সহজ প্রাকৃতিক উপায়

ওজন কমানো আসলে খুব কঠিন কাজ নয়। একটু ইচ্ছে আর সামান্য ধৈর্য (Patience) থাকলেই তা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *